দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কখনো কখনো ফোনটি পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহকর্মীর হাতে চলে যায়। আর তখনই মনে প্রশ্ন জাগে—ব্যক্তিগত কথোপকথনগুলো কি নিরাপদ আছে? ব্যবহারকারীদের এই দুশ্চিন্তা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে ‘চ্যাট লক’ ফিচার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট চ্যাট সাধারণ ইনবক্স থেকে সরিয়ে আলাদা সুরক্ষিত ফোল্ডারে রাখা যায়, যা পাসকোড, আঙুলের ছাপ, মুখ শনাক্তকরণ বা সিক্রেট কোড দিয়ে সুরক্ষিত থাকে।
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান হয়। তাই ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে চ্যাট লক সুবিধা চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি। লক করা চ্যাটে প্রবেশ করতে ফোনের পাসকোড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি অথবা ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সিক্রেট কোড প্রয়োজন হয়।
চ্যাট লক চালু করতে প্রথমে যে ব্যক্তির কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে চান, সেই চ্যাটটি খুলতে হবে। এরপর চ্যাটের সেটিংস বা অপশন মেনু থেকে ‘চ্যাট লক’ নির্বাচন করলেই কথোপকথনটি ‘লকড চ্যাটস’ ফোল্ডারে স্থানান্তরিত হবে। একবার লক করা হলে সেটি আর সাধারণ চ্যাট তালিকায় দেখা যাবে না। প্রয়োজন হলে একই পদ্ধতিতে পরে আনলকও করা যাবে।
এই ফিচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লক করা চ্যাটে নতুন বার্তা এলে নোটিফিকেশনে সাধারণত বার্তার বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শিত হয় না। ফলে ফোনের স্ক্রিনে অন্য কারও সামনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘সিক্রেট কোড’ ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই সুবিধা পাওয়া যায়। সিক্রেট কোড ব্যবহার করলে শুধু চ্যাট নয়, ‘লকড চ্যাটস’ ফোল্ডারটিকেও আড়ালে রাখা সম্ভব। এতে অন্য কেউ সহজে বুঝতে পারবে না যে ফোনে কোনো লুকানো চ্যাট রয়েছে।
সিক্রেট কোড দিয়ে লুকানো চ্যাট দেখতে হলে হোয়াটসঅ্যাপের সার্চ বক্সে নির্ধারিত কোড লিখতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করলে লক করা চ্যাটগুলো দেখা যাবে।
তবে চ্যাট লক করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল আসা বন্ধ হয় না। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবেই কল গ্রহণ করতে পারবেন। এই ফিচার মূলত কথোপকথনকে সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি।
এ ছাড়া নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার (রিস্টোর) করলে পূর্বে লক করা চ্যাটগুলো সাধারণত লক অবস্থাতেই থাকে। ফলে ডিভাইস পরিবর্তনের পরও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাট লকের পাশাপাশি শক্তিশালী স্ক্রিন লক, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা এবং হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সুরক্ষা সুবিধা ব্যবহার করলে গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়।
/অ